শিরোনাম :

» শার্শার রুদ্রপুরে টিংকুর চেয়ারম্যানের কাছে ত্রান চেয়ে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়ে মারা গেলেন এক ভাজা বিক্রেতা

প্রকাশিত: ১০. মে. ২০২০ | রবিবার

শাহরিয়ার হুসাইন।। শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বউ বাজার এলাকায় ইউপি চেয়ারম্যান টিংকুর কাছে ত্রান চেয়ে অপমানিত,অপদস্ত, হেয়প্রতিপন্ন অবহেলিত লাঞ্ছিত হয়ে অতি আবেগপ্রবণ হয়ে,না ফেরার দেশে চলে গেলেন আকবার আলীর(৬০)নামের এক ভাজা বিক্রেতা।

এমনই অভিযোগ তুলেছে  ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী আক্ষেপ ও ক্ষোভ  প্রকাশ করছে সাংবাদিকদের কাছে।

সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী  রুদ্রপুর গ্রামের আকবার আলীর প্রতিবেশী আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ঘটে যাওয়া অনাঙ্খিত ঘটনার বিবরন দেন।

তিনি বলেন, কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংকু ‘হ্যালো চেয়ারম্যান’ উদ্যোগ নামক ত্রান সামগ্রী বিতারণে কার্যক্রম চালানোর জন্য রুদ্রপুর সীমান্তে বউ বাজারে আসে। সেখানে ত্রান সামগ্রী পাওয়ায় যোগ্য গরীব অসহায় কর্মহীন ব্যক্তিদের না দিয়ে অযোগ্য(যাদের ত্রান না দিলেও সমস্যা নেই) এমন ব্যক্তিদের ত্রান বিতারন কার্যক্রম অব্যহত ছিলো। তখন প্রকৃতপক্ষে ত্রান পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ভাজা বিক্রেতা আকবার চেয়ারম্যানের এহেন স্বজনপ্রীতি মুলক ত্রান কার্যক্রমে প্রতিবাদ করে।পাশাপাশি নিজেকে ত্রান পাওয়ার যোগ্যা দাবী করেন

চেয়ারম্যান টিংকুকে জনসম্মুখে এমনভাবে মুখের ওপর প্রতিবাদ করা দেখে চেয়ারম্যানেরসহ পৌষ্য ক্যাডার বীজ রহীম গাড়ি থেকে নেমে আকবারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি হুমকি ধামকি দিতে থাকে।এমনকি তোর(আকবার)কে দুদিনে খেয়ে ফেলবো এমন হুমকিও দেন।

এমন ব্যবহার ও এমন হুমকি ধামকি পেয়ে অসহায় আকবার আলী  আতংকিত হয়ে অতি আবেগপ্রবণ হয়ে নিশ্চুপ হয়ে বাড়ী চলে যায়।

এ বিষয়ে আকবার আলীর শ্বশুর আসমত(৮০) বলেন,আমার মেয়ের বিয়ে দেওয়া বাকড়া গ্রামে।আকবার আমাদের(ঘর জামাই) বাড়িতেই থাকে।শনিবার বিকালে আকবার চেয়ারম্যান টিংকুর স্বজনপ্রীতি মুলক ত্রান দেওয়া দেখে প্রতিবাদ করে, আর বলে চেয়ারম্যান সাহেব আমরা গরীব মানুষ আমাদের না দিয়ে জমাজমি ওয়ালা পাকা ঘরবাড়ি থাকা বড় লোক যারা তাদের আপনি ত্রান দিচ্ছেন?আমাদের তো কোনোদিন দিলেন না,যাদের দিচ্ছেন তারা তো আগেও পেয়েছে।আমরা কি দোষ করেছি।এমন কথা বলায়, চেয়ারম্যানের সেন্টিমেন্টে বেধে যায়।সামান্য ভাজা বিক্রেতা আমার মুখের উপর এমন কথা বলবে! সেটা হয়তো চেয়ারম্যান মেনে নিতে পারেনি।উগ্র মানুষিকতা ও ক্ষীপ্রতায় সাথে আকবারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং জঘন্ন অমানষিক খারাপ আচরন করে।একজন জনপ্রতিনিধির কাছে সাধারন মানুষ সাধারণ মানুষ আশা করে না বলো স্বজন

এলাকাবাসী জানান ,এমন ব্যবহার পেয়ে অসহায় আকবার নিস্তব্ধতা চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে  স্ত্রী কে দোকানেে রেখে ঘটনাস্হল থেকে বাড়ী ফিরে যায়।বাড়ী ফেরার মধ্যে তাড়াতাড়ি না ফিরলে আধা ঘন্টা পর তার স্ত্রী বাড়ী ফিরে স্বামীন আকবর কে তাকে মৃত অবস্থায় দেখে।

এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাবাসী আঙুল তুলে ইঙ্গিত দেয় চেয়ারম্যান টিংকুর দিকে। তাদের দাবি অপমানিত অবহেলিত লাঞ্ছিত ও লজ্জায় পড়ে মানুষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃতুর কোলে  ঢলে পড়ে।বড় চাপা কষ্ট নিয়ে চলে গেলেন আকবার আলী না ফেরার দেশে।হয়তো অর্থ ও ক্ষমতার জোরে নাকি বিষয়টি মাটিচাপা পড়ে যাবে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ইফতারি বিক্রেতা আকবার আলীর শরীরে কোন রোগ নেই। সে চেয়ারম্যান এর দুর্ব্যবহার এর কারনে হৃদযন্ত্র ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। আকবার আলী প্রায় ৩০ বছর যাবৎ শার্শার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে থাকেন। আকবার আলীর স্ত্রী এলাকার মাঠে কাজ করে। আমাদের এলাকায় সবার আগে আকবার আলী ত্রাণ পাওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু তাকে এ পর্যন্ত কোন ত্রাণ দেওয়া হয়নি। তার সাথে খারাপ আচারন করায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংকুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন আওয়ামীলীগ দলীয় চেয়ারম্যান। ওই এলাকাটা হচ্ছে জামাত বিএনপির এলাকা।  আমি তার সাথে কোন খারাপ আচরন করিনি। বরং আমি আমার গাড়িতে রাখা একটি ত্রাম দিতে চায়। তিনি একজন বয়স্ক লোক। তাছাড়া মাথায় ও মনে হয় সমস্যা আছে। সে ত্রাণের প্যাকেট গ্রহন করেনি।

এব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসারপুলক কুমার মন্ডল বলেন বিষয়টি শুনেছি।কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে শার্শা থানার ওসি বদরুল আলম খান বলেন, আমার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে

 

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৭৫ বার

[hupso]