» আজ সর্বোচ্চ রেকর্ড: একদিনেই ১২৭৩ জন শনাক্ত, মারা গেছে ১৪জন

প্রকাশিত: ১৭. মে. ২০২০ | রবিবার

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪  জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২৮জনে ।

একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১২৭২ জন। সব মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২ হাজার ২৬৮ জন।

আজ রবিবার (১৭ মে ২০২০) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকার এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয় বুলেটিনে।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা নতুন যুক্ত হওয়া একটিসহ মোট ৪২টি ল্যাবের নমুনা পরীক্ষার তথ্য তুলে ধরে জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট হাজার ৫৭৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আট হাজার ১১৪টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৭৫ হাজার ৪০৮টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও এক হাজার ২৭৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ২৬৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৪ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩২৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ২৫৬ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন চার হাজার ৩৭৩ জন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, পুরুষ ১৩ জন ও নারী একজন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৯ জন ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচজন। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা সিটির আছেন পাঁচজন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে ১১-২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১-৪০ একজন, ৫১-৬০ তিনজন, ৬১-৭০ তিনজন, ৭১-৮০ তিনজন ও ৮১-৯০ বছরের মধ্যে একজন২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ২৭৬ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৭৪ জনকে।

গতকাল শনিবারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস শনাক্তে আরও ছয় হাজার ৫০১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ছয় হাজার ৭৮২টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ ৬৭ হাজার ২৯৪টি।

নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৯৩০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৯৯৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১৬ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১৪ জনে। মোট ৪১ ল্যাবের মধ্যে ঢাকার ২০ টি ল্যাবের ৮ টির পরীক্ষার ফলাফল গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় হাতে এসে পৌঁছায়নি। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৫ জন এবং এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪ হাজার ১১৭ জন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগের ১২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুইজন ও রংপুর বিভাগের দুইজন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩৪৯ জনকে। আইসোলেশন থেকে ছাড় দেয়া হয়েছে ৫১ জনকে।

আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর চেয়েও বাংলাদেশের বাজেটে কম বরাদ্দ শিক্ষাখাতে

করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। তবে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস ক্রমে গোটা বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। চীন পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। পৃথিবীর ১২০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ মারণ ভাইরাসে মারা গেছে তিন লক্ষাধিক মানুষ।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যুও।

এদিকে ক্রমেই আক্রান্ত সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে ৭ম দফা ছুটি বাড়িয়ে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৭ বার

[hupso]