শিরোনাম :

» নারী দিয়ে টেলিফোনে ডেকে নিয়ে পুরুষ ধরা ফাঁদের সন্ধান

প্রকাশিত: ৩১. মে. ২০২০ | রবিবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।সাতক্ষীরা শহরে আবারো নারী দিয়ে টেলিফোনে ডেকে নিয়ে পুরুষ ধরা ফাঁদের সন্ধান মিলেছে। ব্লাক মেইলিংয়ের এই চক্রটির আবাসস্থল শহরের সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে।

বাড়ির মালিক স্ট্যাম্প ভেন্ডার রবিউল ইসলাম রবি ইতোমধ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের পৃথক দুটি দল একই সঙ্গে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে অভিযুক্তদের কাউকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, সরকারি চাকরিরত একজন কর্মচারিকে তার পূর্ব পরিচিত একটি মেয়ে শুক্রবার বিকেলে ফোন দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দেখা করে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করে।

মেয়েটি পূর্ব পরিচিত হওয়ায় ওই ছেলে যথারীতি সরল বিশ^াসে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে যায় এবং ওই নাম্বারে ফোন দিলে বন্ধ পায়। তখন রবি ভেন্ডারের বিল্ডিং থেকে অন্য একটি মেয়ে এসে ওই ছেলেকে জানায় ‘আপা উপরে আছে-আপনি আসেন’।

ছেলেটি ওই অপরিচিত মেয়ের সাথে বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় উঠার পর আকষ্মিকভাবে সেখানে আরও দুইজন পুরুষ লোক চলে আসে এবং ওই ছেলেকে ধরে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে আহত অবস্থায় জোর করে ওই ছেলেকে একটি রুমের মধ্যে নিয়ে অপরিচিত মেয়েটির সাথে নগ্ন করে ছবি তোলাসহ ভিডিও ধারণ করে চক্রটি।

এরপর শুরু হয় চুক্তি আর দর কষা-কষি। কত টাকা দিতে পারবে ওই ছেলে? ৩ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বশেষ ৮০ হাজার টাকায় চুক্তি সম্পন্ন হয় এবং শুক্রবার রাত ১০টার মধ্যে টাকা দেওয়ার শর্তে স্ট্যাম্প ভেন্ডার রবির পুরুষ ধরা ফাঁদ থেকে মুক্তি পায় ছেলেটি।

এরপর টাকার জন্য বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে ফোনের পর ফোন। অস্থির হয়ে ছেলেটি তার এক বন্ধুকে জানায়। ওই বন্ধু পরিস্থিতি সামাল দিতে জানায় আরেক সাংবাদিককে।

এরপর সাংবাদিকের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে এই সমস্যা নিয়ে কথা হয়। কিন্তু সমস্যা সমাধানের পথ তৈরি না হওয়ায় বিষয়টি রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানকে অবহিত করেন তিনি।

তিনি তাৎক্ষণিক নির্যাতিত ওই ছেলেকে থানায় পৌছে সদর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে দেখা করার নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘটনাস্থলের মারপিটে ততক্ষণে ছেলেটি গুরুতর জখম হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রাতেই চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন তিনি। যথা সময়ে ছেলেটি থানায় পৌছাতে না পারায় ফোনে যোগাযোগ করে সদর থানার পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও পুলিশের উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা রাতেই সেখানে যান। সেখানে ভর্তি অবস্থায় দেখে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন পুলিশ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে যে সব ফোন আসে তা সংগ্রহ করেন।

নির্যাতিত ওই যুবকের করুণ কাহিনী শুনে রাতেই সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে বিলাস বহুল ভবন স্ট্যাম্প ভেন্ডার রবিউল ইসলাম রবির বাড়িতে পুলিশ হানা দেয়। ততক্ষণে রবি গা ঢাকা দেয়। শনিবার দিনভর নানা অজুহাতে তিনি গা ঢাকা দিয়েই থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, রবি ভেন্ডারের বাড়িতে দীর্ঘদিন এধরণের নানান অসামাজিক কার্যকলাপ হয়ে আসছিল। চলে জুয়ার আসর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার মাদক সেবন ও বিক্রির নিরাপদ আস্তানা হিসেবে। রয়েছে সামনের ভবনের পেছনে আরও একটি ভবনে নিরাপদ কয়েকটি রুম। যেখানে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, সখীদের দিয়ে শরীর ম্যাসেজ ও রমরমা জুয়ার আসর। এছাড়াও শহরের একাধিক স্থানে বাসাভাড়া নিয়ে সখীদের ঢাল হিসেবে রেখে দেয়ারও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন।

এসব বিষয়ে অভিযানে থাকা এসআই নুর আলম জানান, রাতেই ভেন্ডার রবিউল ইসলাম রবির বাড়িতে অভিযান হয়েছে কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। জড়িত আরও যারা আছে তাদের অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা হয় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মহিদুল ইসলামের সাথে। শনিবার দুপুরে জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে পলাতক থাকায় এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। রাতে সর্বশেষ তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, এঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি, তাই কোন বক্তব্য দেয়া যাবেনা।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান রাতে জানান, এবিষয়ে কাজ চলছে। অচিরেই গণমাধ্যমসহ সাতক্ষীরাবাসীকে ভাল খবর দিতে পারবো বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০০ বার

[hupso]