শিরোনাম :

» অর্থপাচার মামলায় যুবলীগের খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

প্রকাশিত: ১৬. জুন. ২০২০ | মঙ্গলবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।অর্থপাচার আইনে করা মামলায় ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা মহানগর হাকিম (ভার্চুয়াল আদালত) জিয়াউর রহমান শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে খালেদকে উপস্থিত দেখানো হয়। তার সাথে কারা কর্তৃপক্ষ ছিলেন।

এসময় মতিঝিল থানার অর্থপাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক রাশেদুর রহমান।

অপরদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মতিঝিল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোতালেব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মতিঝিল থানার অর্থপাচার মামলায় রোববার খালেদকে গ্রেফতার দেখানো পূর্বক সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে সিআইডি।

ওইদিন আদালত আবেদনটি উপস্থাপন করা হলে বিচারক আজ মঙ্গলবার এ বিষয় শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাকে অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার দেখানোপূর্বক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে ৭ জুন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে খালেদের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করেন।

মামলা নম্বর ৩(৬)২০। পরের দিন ৮ জুন ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ সিআইডির করা দুই মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১২ জুলাই দিন ধার্য করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- আইয়ুব রহমান, আবু ইউনুস ওরফে আবু হায়দার, দীন মজুমদার ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। তবে খালেদ ছাড়া অপর উল্লিখিত আসামিরা অর্থপাচারে খালেদকে সহযোগিতা করেছেন মর্মে জানা যায়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর কমলাপুর রেলভবন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ঢাকা ওয়াসার ফকিরাপুল জোন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব প্রকল্পের কাজের টেন্ডার একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

পছন্দমতো প্রকল্পের কাজ নিজের মালিকানাধীন ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপারস লিমিটেড, অর্ক বিল্ডার্স এবং অর্পণ প্রোপার্টিজের নামে এসব কাজ করতেন।

অবশিষ্ট প্রকল্পের কাজের জন্য অন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২-১০ শতাংশ হারে নগদ চাঁদা আদায় করতেন।

খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন- মতিঝিল, সবুজবাগ, খিলগাঁও, কমলাপুর, মালিবাগ, শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাছের বাজার, কোরবানির পশুর হাট, সিএনজি স্টেশন, গণপরিবহন থেকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অপরাধলব্ধ আয় করেন। রাজধানীর শাহজাহান পুরে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ ও বিক্রয় করে অবৈধভাবে লাভবান হন।

এছাড়া মতিঝিলের ‘ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে’ অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমেও তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ আয় করেন।

তার মালিকানাধীন ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া ডেভেলপারস, অর্ক বিল্ডার্স এবং অর্পণ প্রোপার্টিজ থেকে তিনি অপরাধকার্য পরিচালনা করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এসব অপরাধলব্ধ আয় তার নিজ নামে ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের হিসাবসমূহে লেনদেন করেন।

মামলার নথি সূত্রে আরো জানা যায়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার এ৪, ১৯৫, উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকায় আরবি বিল্ডার্সের নির্মিত ফ্ল্যাট যার আয়তন ১২৫০ বর্গফুট, গুলশান-২ এ ৩৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুরে কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে একটিসহ রাজধানীতে মোট তিনটি ফ্ল্যাট বা বাসার সন্ধান মিলেছে।

এছাড়া তার নিজ নামে একটি ২০১৬ সালের মডেলের প্রাডো, একটি নোয়াহ গাড়ি আছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, তিনি আয়ের উৎস গোপন করতে আইয়ুব রহমানের সহযোগিতায় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করেন।

গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তকালেও মালয়েশিয়ার মাইব্যাংক ও আরএইচবি ব্যাংক, সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংক এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকের একটি এটিএম ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

সিআইডি অনুসন্ধানের তথ্য উল্লেখ করে জানায়, ২০১৮ সালের মে মাসে খোলা মালয়েশিয়ার মাইব্যাংক ও আরআইআইবি ব্যাংকের চারটি হিসাবে আসামি খালেদের নামে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৭ হা

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮ বার

[hupso]