শিরোনাম :

» শার্শার রামপুরে শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূর শ্লীলতাহানির অভিযোগ,শ্বশুর পলাতক

প্রকাশিত: ১৮. জুন. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

শাহারিয়ার হুসাইন।।শার্শার রামপুর আপন শ্বশুরের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন ছেলে সাগরের স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী ভুক্তভোগী এক পুত্রবধূ।

এমন সুনিদিষ্ট অভিযোগ দেওয়ায় পুত্র ও পুত্রবধূকে বাড়ি থেকে জোর পূর্বক তাড়িয়ে দিয়েছেন শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বিশ্বাস ওরফে লম্পট সুদখোর রফিকুল।

সে শার্শা উপজেলার রামপুর গ্রামের কদর উদ্দীন বিশ্বাসের এর ছেলে।এলাকাজুড়ে এক নামে সুদখোর রফিকুল বললে সবাই এক চেনে।

এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, রামপুর গ্রামের
সুদখোর রফিকুল তার সুদের ব্যবসাতে অল্পদিনে কোটিপতি বনে গিয়েছে।অবৈধ ভাবে আয় করা কোটি টাকার বনিয়াদে সে যা ইচ্ছা তাই করে।তার নামে নারীঘটিত কেলেঙ্কারি শেষ নেই।এমনিতেই দুইটা বউ নিয়ে সংসার করে।এবার তার কু নজর পড়লো নিজের ছেলের বউয়ের দিকে!এলাকাবাসী এমন নিকৃষ্ট লজ্জাজনক কর্মকাণ্ড মেনে নিতে পারছে না।এলাকাজুড়ে ধিক্কার জানাচ্ছে আর তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।

শ্লীলতাহানি হওয়াতে লম্পট শশুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন সুদখোর রফিকুলের বড় ছেলে সাগর (২৫)এর স্ত্রী ও এক সন্তানের জননী।

অভিযোগকারী সাগরের স্ত্রী বলেন,বিয়ের পর পরই লম্পট শ্বশুর আমার দিকে তার কু নজর দিতে শুরু করে।এক পর্যায়ে আমার সাথে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে লাগে।আমি লজ্জায় কারোর সাথে কিছু বলতে পারি না।একদিন হঠাৎ করে আমার লম্পট শ্বশুর আমার হাত টেনে ধরে আর কু-প্রস্তাব দেয়।বিষয়টি আমার স্বামী সাগরের সাথে সব ঘটনা খুলে বলি,কিন্তু অভিযোগ স্বামীর জন্মদাতা লম্পট বাবার বিরুদ্ধে ছিলো বলে সে আমার শাশুড়িদের সাথে বলতে বলে।তাদের সাথে বলার পর হিতের বিপরীত হয়।শ্বাশুড়িরাই তখন আমার উপর নির্যাতন শুরু করে।

সম্প্রতি আমার লম্পট শ্বশুর আমাকে আপত্তি কর কথা বলে।আর বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে থাকে।আমাকে কু-প্রস্তাব দেয়।আমি রাজি না হওয়ায়,লম্পটটা আমার স্পর্শ কাতর স্থানে অনেকবার হাত দেয় এবং জোর করে ধর্ষন করার চেষ্টা চালাত জাপটে ধরে।পরিস্হিতি খারাপ দেখে আমি কোন রকম প্রান নিয়ে পালিয়ে আসি এবং স্বামী সহ দু শ্বাশুড়ীকে আবারও জানাই।

পরবর্তিতে আমি আর আমার স্বামী স্থানীয় ভাবে বিচার বসায়।এতে ক্ষিপ্ত এক পয়ার্যে আমার সন্তান ও স্বামীকে সহ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেয়।এখন আমি স্বামী সন্তান নিয়ে পথে পথে ঘুরছি।আমি তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাই।

এ বিষয়ে সুদখোর রফিকুলের ছেলে অভিযোগ করে বলেন,আমার বাবা চরিত্রগত সমস্যা আছে। আমার বাবা এর আগেও অনেক বার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।আমার স্ত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য স্থানীয় ভাবে বিচার দিলে সেখানে সে হাজির না হয়ে তার পক্ষ থেকে তার ভাই সাবেক মেম্বর বাদশাকে তার তরফ থেকে পাঠায়।

পরে স্থানীয় শালিসি বিচারের রায় প্রত্যাখ্যান করে।এবং আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করার ও মৃত্যুর হুমকি প্রদান করে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

এব্যাপারে উলাশী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আয়নাল হক বলেন,ঘটনাটি পারিবারিক সমস্যা বলে সুষ্ঠ ভাবে সমাধান করে দেওয়ার জন্য উক্ত ওয়ার্ডের মেম্বর কবির হোসেন কে দায়িত্ব দিয়েছিলাম।পরে শুনলাম শালিসি বৈঠকের রায় অভিযুক্ত সুদখোর রফিকুল প্রত্যাখ্যান করে পালিয়ে গেছে।

আসলে সুদখোর রফিকুলের নামে নারীঘটিত কেলেঙ্কারির শেষ নেই।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমি ভুক্তভোগী মেয়েটির কাছ থেকে শুনেছি।ঘটনাটি আসলেই খুবই লজ্জাজনক আপত্তিকর ঘটনা। তাদের আমি থানা পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম বলেন, এবিষয়ল অভিযোগ পেয়েছি।তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৮৩ বার

[hupso]